জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে টোকিওতে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ মঙ্গলবার টোকিওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কান্তেই-তে পৌঁছালে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁকে স্বাগত জানান। পরবর্তীতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে প্রতিনিধিদল পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কান্তেই-তে গার্ড অব অনার ও আনুষ্ঠানিকতা
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কান্তেই প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের সড়কসমূহ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়। জাপানি সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন।
গার্ড অব অনার শেষে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁর মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে তারেক রহমানের পরিচয় করিয়ে দেন। একইভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তীতে পরিদর্শক বইয়ে (Guest Book) স্বাক্ষর শেষে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।
কৌশলগত অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে গুরুত্ব
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো অগ্রাধিকার পায়। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতেও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন:
•আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
•হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
•অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
•এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রধান উপদেষ্টাগণ ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম এবং গত পাঁচ দশক ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার।
তিনি বলেন,
“আমাদের মূল লক্ষ্য দুই দেশের বহুমাত্রিক বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং সার্বিক প্রগতির এক শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়া।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের সরকারি ও বেসরকারি খাতকে আরও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সরকারি মধ্যাহ্নভোজ ও সফরসূচি
দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলন শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত সরকারি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মধ্যাহ্নভোজস্থলে পৌঁছালে সানায়ে তাকাইচি ডা. জুবাইদা রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান এবং কুশল বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় রাষ্ট্রীয় সফর। চার দিনের এই সফরের প্রথম দিন, অর্থাৎ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা।