কাশ্মীরের পাকিস্তান অন্তর্ভুক্তি দিবস ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও চলমান সংগ্রাম

কাশ্মীরের পাকিস্তান অন্তর্ভুক্তি দিবস ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও চলমান সংগ্রাম
প্রতি বছর ১৯ জুলাই নিয়ন্ত্রণরেখার (LoC) উভয় পাশে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত কাশ্মীরিরা দিনটিকে 'কাশ্মীরের পাকিস্তান-অন্তর্ভুক্তি দিবস' হিসেবে পালন করেন — ভারতীয় দখলদারিত্ব থেকে কাশ্মীরের মুক্তির সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শপথ নতুন করে গ্রহণের মধ্য দিয়ে।
১৯৪৭ সালের এই দিনে শ্রীনগরে 'অল জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্স'-এর মঞ্চ থেকে কাশ্মীরিরা এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব গ্রহণ করেন, যাতে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়।

এই প্রস্তাবের তাৎপর্য ব্যাখ্যার আগে কয়েকটি ঐতিহাসিক তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি।

১৮৪৬ সালে ব্রিটিশরা কাশ্মীরকে — তার অধিবাসী ও সম্পদসহ — মাত্র ৭৫ লাখ নানকশাহী রুপির বিনিময়ে এক যুদ্ধবাজ শাসকের হাতে বিক্রি করে দেয়; ইতিহাসের ভাষায়, "সিংহাসনে আসীন হওয়া সবচেয়ে নীচ, লোভী, নিষ্ঠুর ও নীতিহীন ব্যক্তিদের একজনের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার হাতে।"

এই ঘৃণ্য চুক্তি সম্পর্কে পর্যটক-লেখক ভিন (Vigne) লিখেছেন:

"কাশ্মীরের জনসংখ্যা যেহেতু ছয় লাখ, সেহেতু মাথাপিছু পঁচিশ শিলিং দরে তাদের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল — আধুনিক যুগের দাস-বাণিজ্যের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় লেনদেন।"

এই স্বৈরশাসনের পরবর্তী একশ বছর কাশ্মীরি মুসলমানদের যন্ত্রণা, দুর্ভোগ ও দুর্দশার এক দীর্ঘ ইতিহাস — যার বিবরণ কঠিনতম হৃদয়কেও বিগলিত করে। জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ কৃষক হওয়া সত্ত্বেও গুলাব সিং মুসলমানদের জমির যাবতীয় মালিকানা-অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন।

১৮৪৬ সালে কুখ্যাত অমৃতসর চুক্তির পর ডোগরারা কাশ্মীরে প্রবেশ করলে মাইসুমার যুদ্ধে কাশ্মীরি প্রতিরোধ বাহিনীর হাতে তারা পরাজিত হয় এবং তাদের সেনাপতি লাখপত রাই নিহত হন; কেবল ব্রিটিশ হস্তক্ষেপেই সেদিন ডোগরারা রক্ষা পায়। তাদের একশ বছরের শাসন ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে নগ্ন আগ্রাসনের ইতিহাস। শেষ ডোগরা শাসকের প্রধানমন্ত্রী, বাঙালি সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা অ্যালবিয়ন রাজকুমার ব্যানার্জি ১৯২৯ সালে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করে যে পর্যবেক্ষণ দেন, তাতে ডোগরাদের প্রজা-শাসনের চিত্র স্পষ্ট:

"জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য বহু প্রতিকূলতার ভারে জর্জরিত — বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পূর্ণ নিরক্ষর, দারিদ্র্য ও গ্রামীণ জীবনের চরম নিম্ন অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত, এবং কার্যত বোবা, তাড়িয়ে নেওয়া গবাদিপশুর মতো শাসিত। সরকার ও জনগণের মধ্যে কোনো সংযোগ নেই, অভিযোগ জানানোর কোনো উপযুক্ত সুযোগ নেই... প্রশাসনের জনগণের চাওয়া-পাওয়া ও দুঃখ-দুর্দশার প্রতি কোনো সহানুভূতিই নেই বললে চলে।"

কাশ্মীরি মুসলমানদের সঙ্গে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট আচরণ করা হতো। ডোগরা শাসনের সবচেয়ে নিপীড়নমূলক প্রতিষ্ঠান ছিল 'বেগার' (বাধ্যতামূলক বিনা পারিশ্রমিকের শ্রম)। গিলগিত, লেহ, চিলাস, স্কার্দু ও হাজারার দুর্গম সামরিক অভিযানে রসদ বহনের জন্য প্রশাসন সক্ষম-দেহ মুসলমানদের ভারবাহী পশুর মতো তাড়িয়ে নিয়ে যেত — বরফাবৃত গিরিপথ আর বিপজ্জনক পার্বত্য পথ থেকে অনেকেই আর জীবিত ফিরত না। মোহাম্মদ ইউসুফ সরাফ লিখেছেন, শ্রীনগর শহরের বাইরে কাশ্মীরে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া কঠিন, যাদের পারিবারিক ইতিহাসে বেগারে নিয়োজিত কোনো পুরুষ স্বজনের করুণ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাহিত হয়নি। ই. এফ. নাইট এই হতভাগ্যদের পরিণতি বর্ণনা করেছেন এভাবে:

"তারা পথেই ক্ষুধা-তৃষ্ণায় মারা পড়ে; পাতলা পোশাকে বরফাবৃত গিরিপথের ঠান্ডায় একসঙ্গে শত শত মানুষ প্রাণ হারায়। বেগারের জন্য কাউকে ধরে নিয়ে গেলে তার স্ত্রী-সন্তানরা কাঁদতে কাঁদতে তাকে জড়িয়ে ধরে — তারা প্রায় ধরেই নেয় যে তাকে আর কখনো দেখতে পাবে না। জ্বলন্ত গ্রীষ্মের দিনে সিপাহি প্রহরীর তাড়া খেয়ে শস্যের ভারী বোঝা নিয়ে অস্তোর ও গিলগিতের মধ্যবর্তী মরু-পাহাড় বেয়ে চলা এই হতভাগ্যদের দল সাইবেরিয়ার পথে দেখা যেকোনো দৃশ্যের মতোই করুণ। অথচ এরা কোনো কয়েদি বা অপরাধী নয় — এরা মুসলমান কৃষক, মহারাজার নিরীহ প্রজা।"

অসহায় কৃষকদের ঠিক তখনই বেগারের জন্য ধরে নিয়ে যাওয়া হতো, যখন তারা চাষাবাদের কাজে ব্যস্ত থাকত। 'Travels in India and Kashmir' গ্রন্থের লেখক মিশরের ফেরাউনের শাসনের সঙ্গে তুলনা টেনে মুসলিম কৃষকদের দুর্দশার বর্ণনা দিয়েছেন:

"আমি বহু দেশ ঘুরেছি, কিন্তু কাশ্মীরের মতো মানুষের এমন মর্মান্তিক দৃশ্য কোথাও দেখিনি। এ দৃশ্য মিশরের ফেরাউনের শাসনামলে বনি ইসরাইলের ইতিহাসকেই মনে করিয়ে দেয়, যখন নির্দয় তত্ত্বাবধায়করা দৈনন্দিন কাজে তাদের চাবুক মারত। এখানেও সেই একই চিত্র — মানুষ তার সহ-মানুষের ওপর হাত তোলে, আর তার একমাত্র উদ্দেশ্য শারীরিক যন্ত্রণা দেওয়া। চল্লিশ জন কৃষকের এই দলটিকে এক পেয়াদা ডেকে জড়ো করে গবাদিপশুর পালের মতো তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল — রক্ষক পেছনে হেঁটে নাগালের মধ্যে সবাইকে আঘাত করছিল। এই দাস-চালক রুশ 'নট'-এর আদলে বোনা এক বিশেষ ধরনের চাবুক বহন করত... পেয়াদা কোমরবন্ধে চাবুক গুঁজে রাখে এবং সুযোগ পেলেই গরুর রাখালের মতো তা ব্যবহার করে; বরং বলা উচিত, সে সুযোগের অপেক্ষা করে না — সুযোগ তৈরি করে নেয়।"

টিন্ডেল বিসকো তাঁর এক ভৃত্যের দাদার কথা উল্লেখ করেছেন, যাঁকে একটি চীনা কুকুরের বিনিময়ে বদল করা হয়েছিল। ফলে বেগারের যন্ত্রণা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বিপুলসংখ্যক মুসলমান প্রতিবেশী পাঞ্জাবসহ কাশ্মীরের বাইরে বিভিন্ন স্থানে হিজরত করেন। এই দেশত্যাগের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ১৮৯১ সালের পাঞ্জাব আদমশুমারি প্রতিবেদনে কাশ্মীরে জন্মগ্রহণকারী প্রায় ১,১১,৭৭৫ জন মুসলমানকে পাঞ্জাবে বসতি স্থাপনকারী হিসেবে গণনা করা হয় — যা ছিল তৎকালীন শ্রীনগরের সমগ্র জনসংখ্যার (১,১৮,৯৬০) প্রায় সমান। বেগার প্রথা প্রায় ৩০ বছর ধরে চলে।

মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এই রাজ্যে মোট ২,২০১ জন শিক্ষকের মধ্যে মুসলমান ছিলেন মাত্র ৭১৮ জন; ৪৯টি মিডল স্কুলের মধ্যে মাত্র ৩টিতে মুসলিম প্রধান শিক্ষক ছিলেন, আর ১৪টি হাই স্কুলের মধ্যে মাত্র ১টিতে ছিলেন মুসলিম প্রধান শিক্ষক।

১৯২৪ সালে লর্ড রিডিংয়ের কাছে পেশ করা এক স্মারকলিপিতে বলা হয়:

"কাশ্মীরের মুসলমানরা আজ শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। তাদের শিক্ষার প্রয়োজন চরমভাবে উপেক্ষিত। জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে সাক্ষরতার হার মাত্র ০.৮ শতাংশ... এতদিন আমরা আমাদের অভিযোগ ও দাবির প্রতি রাষ্ট্রের ঔদাসীন্য এবং আমাদের অধিকারের প্রতি তার স্বেচ্ছাচারিতা ধৈর্য ধরে সহ্য করেছি; কিন্তু ধৈর্যেরও সীমা আছে, সহনশীলতারও শেষ আছে... রাজ্যের হিন্দুরা, যারা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪ শতাংশ, তারাই সব দপ্তরের অবিসংবাদিত কর্তা।"

দেশভাগের সময় মহারাজা নিজের স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার আশায় ভারত বা পাকিস্তান — কোনো পক্ষেই যোগদানের ঘোষণা দেননি। অথচ তাঁর রাজ্যের ৭৭ শতাংশ অধিবাসী ছিলেন মুসলমান, আর খোদ কাশ্মীর উপত্যকায় মুসলমান ছিলেন ৯২ শতাংশ; রাজ্যটির সীমান্ত ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে, ভারতের সঙ্গে কোনো সীমান্তই ছিল না। ধর্ম ও ভূগোল যদি রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ করত, তবে এটি কোথায় যাবে — তা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতার অবকাশই ছিল না।

১৯৪৭ সালে সরদার ইব্রাহিমের বাসভবনে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয় — 'বিদ্যমান ধর্মীয়, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন এবং লাখো কাশ্মীরি মুসলমানের আকাঙ্ক্ষা জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তিকেই অনিবার্য করে তোলে।' নিম্নোক্ত কারণগুলো বিবেচনায় এটিই ছিল সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত:

১. জম্মু ও কাশ্মীরের প্রায় সব প্রধান ভৌগোলিক, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ ছিল পশ্চিম পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) অঞ্চলের সঙ্গে — যে অঞ্চলগুলো পাকিস্তানের অংশ হতে যাচ্ছিল।

২. ভৌগোলিক দিক থেকে, জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশকারী একমাত্র রেলপথটি ছিল নর্থ ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের একটি শাখা — যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রায় ২৫ মাইল দূরের শিয়ালকোট থেকে রাজ্যের শীতকালীন রাজধানী জম্মু শহর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর মোটরযান চলাচলের উপযোগী সড়ক রাজ্যে ছিল হাতেগোনা।

৩. রেলপথের মতোই জম্মু শহরে যাওয়ার প্রধান সড়কটিও ছিল শিয়ালকোট থেকে। গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে যাওয়ার তিনটি সড়কের মধ্যে দুটিই এমন অঞ্চল থেকে রাজ্যে প্রবেশ করত, যেগুলো পাকিস্তানের অংশ হতে যাচ্ছিল।

৪. ১৯৪০ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রায় ২৯,২৯২ জন পর্যটক আসেন — যাঁদের মধ্যে ৮,৩৬৭ জন ইউরোপীয় ও ২০,৯২৫ জন ভারতীয়। তাঁরা মূলত ঝিলাম ভ্যালি রোডসহ ভবিষ্যৎ পাকিস্তানভুক্ত অঞ্চলের সড়কপথ দিয়েই রাজ্যে প্রবেশ করেন।

৫. অর্থনৈতিক দিক থেকেও পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তিই ছিল বাস্তবসম্মত, কারণ নতুন এই রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া অঞ্চলগুলোর সঙ্গে রাজ্যের সংযোগ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাশ্মীর উপত্যকার কাঠ-বহির্ভূত রপ্তানির ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ঝিলাম ভ্যালি রোড হয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে যেত।

৬. কাশ্মীর উপত্যকা থেকে আসা-যাওয়া পণ্যের 'গুদামঘর' হিসেবে বিবেচিত হতো রাওয়ালপিন্ডি। জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠ ঝিলাম ও চেনাব নদী দিয়ে ভাটির দিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ভাসিয়ে পাঠানো হতো।

৭. জম্মু শহর বা রাওয়ালপিন্ডি থেকে রেলযোগে পাঠানো রাজ্যের পণ্য পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল নেটওয়ার্ক দিয়ে করাচিতে পৌঁছাত — যা ছিল এই দেশীয় রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বন্দর। নৈকট্যের কারণে বোম্বে বা কলকাতায় পণ্য পাঠানোর তুলনায় করাচি ৬৫ শতাংশ পরিবহন-ব্যয় সুবিধা ভোগ করত।
১৯৪৭ সালের ১৯ জুলাই ৫৯ জন নেতার উপস্থিতিতে খাজা গোলামউদ্দিন ওয়ানি ও আবদুর রহিম ওয়ানি কর্তৃক উত্থাপিত এই প্রস্তাবই পরবর্তীতে পুঞ্চ বিদ্রোহ এবং তারই ধারাবাহিকতায় আজাদ কাশ্মীরের মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।

সাত দশক পরও এই স্বাধীনতা সংগ্রাম আজও পূর্ণ উদ্যমে অব্যাহত রয়েছে।
কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের (কেএমএস) গবেষণা শাখা কর্তৃক ২০২২ সালের ৫ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, "রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় ভারতীয় বাহিনী ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে পাঁচ কিশোরসহ ১৪০ জন কাশ্মীরিকে শহীদ করেছে।"

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, "গত ছয় মাসে অবৈধভাবে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (IIOJK) ভুয়া সংঘর্ষে ১৯ জন তরুণকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্ডন ও তল্লাশি অভিযানের সময় ভারতীয় বাহিনী রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে ৩৪টিরও বেশি বাড়িঘর ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে।"

হুরিয়াত নেতা ইয়াসিন মালিককে সাজানো অভিযোগে অসৎ উদ্দেশ্যে দোষী সাব্যস্ত ও দণ্ডিত করার পর ভারতীয় দখলদার বাহিনী কাশ্মীরিদের — বিশেষত কাশ্মীরি তরুণদের — বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নিরীহ মুসলমানদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।

প্রোপাগান্ডা চলচ্চিত্র 'কাশ্মীর ফাইলস'-এর মুক্তি, এরপর ইয়াসিন মালিকের দণ্ড, আর ৪২ লাখ ভুয়া ডোমিসাইল হিন্দুদের দেওয়ার পর জনমিতিক পরিবর্তনকে বৈধতা দিতে ডিলিমিটেশন কমিশনের প্রতিবেদন — এ সবই বিজেপি সরকারের অনুসৃত একটি ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ।
কিন্তু কোনো জুলুমই চিরস্থায়ী নয়। মুসা (আ.) উদ্ধার করার আগে বনি ইসরাইল ৪০০ বছর দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি ছিল। ম্যাকাও ১৫৫৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত পর্তুগিজ উপনিবেশ ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশ ২০০ বছর ধরে ব্রিটিশদের লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে।
কাশ্মীর স্বাধীনতা দেখবেই। এটা অনিবার্য!

তথ্যসূত্র:
১. 'Kashmir: Exposing the Myth Behind the Narrative' — খালিদ বশির আহমদ
২. 'The Untold Story of the People of Azad Kashmir' — ক্রিস্টোফার স্নেডেন
ট্যাগ: কাশ্মীর পাকিস্তান ১৯ জুলাই অন্তর্ভুক্তি দিবস জম্মু ও কাশ্মীর ইতিহাস
শেয়ার করুন: Facebook X WhatsApp