আমি দেখেছি জুলাই!
দেখেছি রৌদ্রদগ্ধ পথে
শত সহস্র পদধ্বনির বজ্র-নিনাদ,
দেখেছি শৃঙ্খল-ছেঁড়া তরুণের চোখে
দিগন্ত-ভাঙা ইস্পাতি ইশারা!
কে বলে ভীত এ জাতি?
কে বলে নিভে গেছে প্রাণ?
আমি দেখেছি অন্ধকার বিদীর্ণ করে
জেগেছে মানুষের দুর্জয় অভিযান!
সেদিন আকাশ ছিল না নীল,
ছিল বারুদের ধূসর রঙে রাঙা;
তবু বুকের ভেতর জ্বলেছে সূর্য,
তবু কণ্ঠে উঠেছে মুক্তির গান-জাগা।
কত মায়ের চোখে অশ্রু,
কত পিতার বুকে রুদ্ধ হাহাকার,
তবু তারা বলেছে—
"যাক, যদি যায়!
নত নয় মাথা, ভাঙুক অহংকার!"
আমি শুনেছি রাত্রির বুকে
অগ্নিমন্ত্রের গোপন উচ্চারণ,
শুনেছি নিঃস্ব মানুষের কণ্ঠে
স্বাধীন ভবিষ্যতের আহ্বান।
হে জুলাই!
তুমি শুধু ক্যালেন্ডারের একটি পৃষ্ঠা নও,
তুমি বিদ্রোহের রক্ত-লেখা শপথ;
তুমি অবদমিত স্বপ্নের পুনর্জন্ম,
তুমি অগ্নিবীণার জাগ্রত রথ।
যারা আজ নেই,
যারা মিশেছে মাটির গভীর ঘুমে,
তাদের নাম ভেসে আসে
প্রভাতের আজানে, সন্ধ্যার ধূপে।
তারা বলে—
"রক্ষা করো সত্যকে,
বিকিও না বিবেক কোনোদিন;
রক্তের দামে কেনা স্বপ্ন
অন্ধ লোভে কোরো না বিলীন।"
তাই আজও আমি উচ্চারণ করি—
হে আমার দেশ!
তোমার আকাশ থাকুক মুক্ত,
তোমার নদী থাকুক নির্ভীক,
তোমার তরুণ থাকুক দুর্বার।
আর যদি আবার নামে আঁধার,
যদি ফিরে আসে অন্যায়ের কাল—
তবে লক্ষ কণ্ঠে ধ্বনিত হবে
সেই জুলাইয়ের মহাকাল!
কারণ,
মানুষের চেয়ে বড় নয় কোনো সিংহাসন,
সত্যের চেয়ে শক্ত নয় কোনো প্রাচীর;
জুলাই শিখিয়েছে—
জনতার জাগরণই ইতিহাসের
সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসির।